ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২১

জানুক সবাই দেখাও তুমি

জানুক সবাই দেখাও তুমি’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের আইসিটি ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ও তাদের প্রোগ্রামিং দক্ষতা যাচাই করার আয়োজন ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা (এনএইচএসপিসি)। দেশের হাই স্কুল ও কলেজ তথা ষষ্ঠ-দ্বাদশ শ্রেণী এবং সমমানের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে জনপ্রিয় করার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ২০১৫ সালে এই কার্যক্রম শুরু হয়। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের সঙ্গে সংগতি রেখে এই কার্যক্রমকে ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রোগ্রমিং প্রতিযোগিতা (National High School Programing Contest-NHSPC) হিসাবে অভিহিত করা হয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ, অনলাইন ও অনসাইট প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং প্রোগ্রামিং ক্যাম্পসহ আরও নানান আয়োজন করা হয়ে থাকে।

বাণী

ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায়  স্বাগত

প্রিয় শিক্ষার্থী,

আমার নিজের এবং তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি বিভাগের শুভেচ্ছা।

আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিগত বছর সমূহে ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রােগ্রামিং প্রতিযােগিতা ( এনএইসএসপিসি) সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য তােমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তােমাদের মেধা, উৎসাহ, একাগ্রতা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে এই আয়ােজনকে আরও বৃহৎ করার জন্য। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের হাত ধরে রচিত হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যের কাহিনী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে নিজেদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। ২০৩০ সাল নাগাদ তােমরা যখন এই দেশের যুব সমাজের নেতৃত্বে থাকবে তখন বিশ্বজুড়ে আরও বিকশিত হবে তথ্যপ্রযুক্তি। আর তাইতাে আমরা চাই নতুন প্রজন্মের প্রত্যেকেই হয়ে উঠুক ডিজিটাল বাংলাদেশের এক-একজন ডিজিটাল সৈনিক।

তােমরা সবাই হাইস্কুলে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় পড়ছ, নিজেদেরকে তৈরি করছ। সে তৈরি হওয়াকে আরও এগিয়ে নিতেই আমাদের ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রােগ্রামিং প্রতিযােগিতা। তবে, করোনা মহামারির কারনে গতবারের মত এবারও অনলাইনে এই আয়োজন হচ্ছে। আশা করছি তােমাদের আরও অনেককে এবছর আমরা এই আয়োজনে সম্পৃক্ত করতে পারব।

তােমরা যখন কোনাে কম্পিউটার গেমস খেলাে কিংবা কম্পিউটারে ছবি আঁকো তখন নিশ্চয়ই ভাবাে এগুলাে কেমন করে তৈরি হয়েছে? আমরা চাই আগামী দিনগুলােতে তােমরা নিজেরাই এমন সব প্রােগ্রাম তৈরি করতে পারবে। কারণ, কম্পিউটার প্রােগ্রামার হওয়ার জন্য তােমাক জিনিয়াস হতে হবে না। দরকার একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং সর্বোপরি ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতি ভালােবাসা। বিশ্বের বড় বড় প্রােগ্রামারই তােমাদের মতাে ছােটবেলাতেই প্রােগ্রামিং শুরু করেছিলেন।

অনলাইন ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রােগ্রামিং প্রতিযােগিতা ২০২১-এর সব আয়ােজনে আমি তােমাদের স্বাগত জানাই।

প্রােগ্রামিং করাে, বিশ্বকে জানান দাও তােমার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা।

তরুণেরাই গড়বে নতুন দেশ, ডিজিটাল হবে বাংলাদেশ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি

প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি বিভাগ

প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। আর এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার হাতিয়ারই হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)। আর এই হাতিয়ার সঠিকভাবে ব্যবহারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে ছাত্র ও তরুণ সমাজ। শিক্ষার্থী ও তরুণদের আইসিটি হাতিয়ার ব্যবহারে অধিকতর দক্ষ ও কুশলী হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে আইসিটি বিভাগ। আর সেজন্য আইসিটি বিভাগ আয়োজন করছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান। ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২১ তারই একটি ধারাবাহিকতা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এর প্রয়োগ সম্পর্কে সবার সাধারণ সচেতনতার পাশাপাশি আমাদের দরকার দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের কম্পিউটার প্রোগ্রামার। আর এরই অংশ এই আয়োজন। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন ইতোমধ্যে তোমাদের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে বিকশিত হচ্ছে। প্রতিবছরই আমরা এ আয়োজনকে বড় করছি। এ বছর কোভিড-১৯ বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতে ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২১ অনলাইনে আয়োজন করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে কর্মশালা, অনলাইন প্রতিযোগিতা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইত্যাদির যে ধারা চালু হয়েছে তা নিঃসন্দেহে তোমাদের উৎসাহ ও আগ্রহের পরিচায়ক। আগামীতে এটি আরো বাড়বে নিশ্চয়ই।

বিশ্বব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এর প্রয়োগ জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। আইসিটির ব্যবহার একদিকে আমাদের জীবনকে করেছে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও গতিময় এবং অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী জ্ঞানের বিকাশ ঘটছে এবং এক নতুন অর্থনীতিও বিকশিত হয়ে উঠছে। অটোমেশন, কম্পিউটারায়ন ও ডিজিটালাইজেশনের কারণে আমাদের দেশেও প্রযুক্তিবিদ তথা কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের চাহিদা বেড়েই চলেছে।

আমি জানি, আমাদের খুদে প্রোগ্রামারদের জন্য যে প্ল্যাটফর্ম আমরা তৈরি করছি তা একদিন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় করবে।
আইসিটি কুইজ ও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণেচ্ছু সবাইকে আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
তোমরাই গড়বে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

এন এম জিয়াউল আলম পিএএ

সিনিয়র সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

আমাদের দেশকে উন্নত করতে সবচেয়ে জরুরী হলো আমাদের বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তির শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। এর জন্য সবথেকে ভালো হয় যদি শিক্ষাটা শুরুহয় ছোট থেকেই। আর শুধু শিখলেই হবে না, পাশাপাশি থাকতে হবে প্রতিযোগিতাও। সেই উদ্দ্যেশ্যেই প্রতিবছর এই কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রোতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কোভিড-১৯ এর এই মহামারীর কারনে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রোতিযোগিতা-২০২১ আয়জিত হতে যাচ্ছে অনলাইনে।

প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত একটি দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে, যা কার্যকর করতে আইসিটি বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিগত বছরগুলোতে এই পদক্ষেপের বেশ কিছু কার্যক্রম আয়োজিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এর ফল স্বরূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছে এবং আমাদের জাতির জীবনযাত্রাকেও উন্নত করেছে। এছাড়াও, এটি আমাদের মানুষের সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং আইসিটি ব্যবহৃত হয় এমন প্রতিটি সেক্টরকে প্রশংসিত করেছে।

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রোতিযগিতা ২০১৫ সালে যখন শুরু হয়, প্রথম বছরেই আগ্রহী শিক্ষার্থিদের সাড়া ছিলো চোখে পড়ার মতো। এর পর থেকে প্রতি বছরই এই প্রতিযোগিতার কেবল বিস্তার ঘটে চলেছে। করোনা নামক এক মহামারীর কারনে ২০২০ সালে এ আয়োজন হয়েছিল অনলাইনে, সেটাও চমকপ্রদ ভাবে সফল হয়। এবছড়েও এই মহামারীর প্রকোপ বহাল থাকায় আবারও এই আয়োজন হতে যাচ্ছে অনলাইনে। আমি আশা করছি এবারেও শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে চমকে দেয়ার মতো সংখ্যক অংশ নেবে এবং বিজয়ী হবে।

আমাদের তরুনরা আজকাল মুঠোফোনের দিকেই বেশি ঝুকে পড়ছে। এই প্রোগ্রামিইং বিষয়টার সবথেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে একটা স্মার্ট ফোন দিয়েও যেকেউ চাইলেই প্রোগ্রামিং করতে পারবে। ছোটদের এই মুঠোফোনের প্রতি আকর্শনকেই আমরা কাজে লাগাতে পারি তাদের প্রোগ্রামিং চর্চার হাতেখড়ি হিসেবে।
আমার মনে হয় দেশের প্রায় সকল জেলার শিক্ষার্থীদের মাঝে কোন কিছু শেখার প্রতিযগিতামূলক একটা আগ্রহ ছড়িয়ে দিতে পাড়াটাই আসলে অনেক বড় অর্জন। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত জ্ঞ্যান ভিত্তিক সমাজে উন্নীত হওয়ার বাংলাদেশের একটি লক্ষ্য রয়েছে। জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রোতিযোগিতার মতো এরকম আয়োজনের মাধ্যমে আগ্রগতির এই ধারা এভাবেই বজায় থাকলে খুব শীগ্রহী সেই লক্ষ্য পূরন করা সম্ভব।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে সকল দিক থেকে। আমরা প্রোগ্রামিং এর পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজন বুঝে তাদের সকল ভাবে প্রশিক্ষন দেয়ার চেষ্টা করছি। আগামীর বাংলাদেশ হবে প্রযুক্তি নির্ভর যেখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে আমাদের এই ক্ষুদে প্রোগ্রামাররা। সব দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ কে তারা এগিয়ে নিয়ে যাবে আরো এক ধাপ সামনে।
প্রোগ্রামিং এর এই প্রোতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদের জন্য আমার অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।

পার্থপ্রতিম দেব

নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)

জানুক সবাই দেখাও তুমি

আমরা সবাই জানি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়তে শিখতে হয়, লিখতে শিখতে হয়, তারপর তাদের পাঠ্যবই গুলো খুলে পড়ে পড়ে অনেক কিছু জানতে হয়। এই সময়টা যেহেতু বাড়ন্ত শরীর, তাই যাদের সুযোগ আছে তাদের মাঠে ঘাটে ছোটাছুটি করে খেলতে হয়। বাংলাদেশে যেহেতু শত শত নদী পুকুর খাল বিল তাই তাদের সাঁতার শিখতে হয়। আমরা আরো জানি শুধু পাঠ্যবইয়ের মাঝে আটকে থাকলে হয় না, তাদের কাব্যের বই পড়তে হয় জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প  সাহিত্য ইতিহাসের কতো কি জানার আছে সবকিছুতে উঁকি দিতে হয়। যত সময় যাচ্ছে আমরা টের পেতে শুরু করেছি যে এর সাথে সাথে তাদের মনটাকে বিকশিত করার জন্য গান গাইতে হয়, ছবি আঁকতে হয়, কবিতা লিখতে হয়। পরিবেশটাকে রক্ষা করতে হয়, প্রকৃতির সৌন্দর্যটাকে উপভোগ করতে হয়, চারপাশের মানুষকে বুক আগলে রক্ষা করতে হয়। শুধু তাহলেই একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারে। এর মাঝে সারা পৃথিবীতে একটা বিচিত্র ব্যাপার ঘটে গেছে। আমরা আবিষ্কার করেছি যে অন্য সবকিছুর সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের নতুন একটা জিনিস শিখতে হয় সেটা হচ্ছে কম্পিউটারের ব্যবহার। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যখনই তাদের হাতের কাছে কাছে কম্পিউটার পেয়েছে, সেটা ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে তারা চোখের পলকে বড়দের থেকেও ভালো ভাবে ব্যবহার করতে শিখে গেছে।

কম্পিউটার ব্যবহারের কোনো শেষ নেই। শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য কম্পিউটারের ব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ ব্যবহার। সবচেয়ে ভালো ব্যবহারটা কি? কাউকে নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না সবচেয়ে ভালো ব্যবহার হচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে যদি কারো আগ্রহ থাকে তাহলে একটা স্মার্ট ফোন দিয়েও প্রোগ্রামিং করতে পারবে। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করে সবাই যে প্রোগ্রামার হয়ে সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করবে তা নয়। অনেকে বিজ্ঞানের কিছু পরীক্ষা করবে, গণিতের কিছু একটা সমাধান করবে, কোন সাহিত্যিকের লেখা বিশ্লেষণ করবে, কোন সংগীতের সুর বিশ্লেষণ করবে, কোন শিল্পীর ছবি কেটে-কুটে দেখবে- কাজের কি কোন শেষ আছে? সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এসব কিছু করার জন্য বড় হতে হবে কে বলেছে? স্কুলে পড়তে পড়তেই লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে যে এই সব কিছু করা যায় সেটা কি সবাই জানে? 

পৃথিবীর কত রহস্য, সেই রহস্যে উঁকি দেওয়ার জন্য আমাদের সামনে একটা জানালা। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করে এই জানালা টা খুলতে হবে, দেখি কে সবার আগে খুলতে পারে। আমরা চাই এই দেশের সব ছেলেমেয়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখে যাক। তাদেরকে উৎসাহ দেয়ার জন্য অন্যান্য বছরের মতো এ বছরেও ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় জিততে হবে কেউ বলেনি, কিন্তু অংশ নিতে হবে গত বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ছেলেমেয়ে অংশ নিয়েছিল। আমরা চাই এই বছর আরও বেশি ছেলেমেয়ে অংশ নিক- আমরা সারা পৃথিবীকে দেখাতে চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রোগ্রামিং-এ কতো আগ্রহী! দেশটাকে সামনে নিয়ে যেতে এর চাইতে ভালো কাজ আর কি হতে পারে?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা

বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ- আমাদের জনঘনত্ব পৃথিবীর গড় জনঘনত্বের ২৪ গুন বেশি। এমনকি যে সকল দেশের জনসংখ্যা খুবই বেশি যেমন চীন যার জনঘনত্ব প্রতিবর্গ কিলোমিটারে ১৪৮ জন, ভারতে ৪৫৫ জন সেখানে বাংলাদেশে ১২৪০ জন। শহরভিত্তিক নয় এমন দেশগুলোর মধ্যে আমাদের জনঘনত্ব সর্বোচ্চ। সম্পদের মধ্যে একমাত্র উদ্বৃত্ত মানুষ যাকে শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে মানবসম্পদে রূপান্তরের মধ্যেই রয়েছে আমাদের অগ্রগতির চাবিকাঠি। বিশ্বায়নের পৃথিবীতে উন্নয়নের পথে সাফল্যের জন্য চাই বিশ্বমানের শিক্ষা। প্রতিযোগিতা হলো যেকোনো ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জনের ব্যয়সাশ্রয়ী পদ্ধতি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে শিক্ষাতেই সুস্থ প্রতিযোগিতার অভাব। এক সময়ে পাবলিক পরীক্ষাতে ছাত্রদের মেধাতালিকা প্রকাশিত হতো, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে স্কুল কলেজকে র্যাংক দেয়া হতো। এখন এর কোনোটিই নেই। প্ররথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যত বড় তালিকাই করা হোক না কেন পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম জনবহুল দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই যে সেই তালিকায় নেই এ নিয়ে আমাদের সংকোচ কিংবা লজ্জাবোধ নেই । তবে সুঝের বিষয় হলো গত শতাব্দীর শেষ দশক থেকে শুরু করে মেধাভিত্তিক নানা প্রতিযোগিতায় আমাদের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা অংশ গ্রহণ করছে এবং ভালো করছে। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের সুবাদে যার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ আগামী বছর বাংলাদেশে হওয়ার কথা যদিও ভারতও এখনো সেই প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারে নি।

প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ২০০০ সালে ৬৪ দলের মধ্যে একাদশ স্থান দখল করলে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। তখন থেকেই এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ছাত্ররা পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের তুলনায় শ্রেয়তর সাফল্য পাচ্ছে। এছাড়া গণিত অলিম্পিয়াডের মতো কঠিন আসর থেকে ডঃ মাহবুব মজুমদারের নেতৃত্ব ২০১৮ সালে গোটা দক্কিণ এশিয়ার একমাত্র স্বর্ণপদকটি পায় আমাদের জাওয়াদ চৌধুরী। এর পাশাপাশি প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায়ও বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা ২০০৬ সাল থেকে অংশগ্রহণ করছে। পর্যবেক্ষক হিসাবে ২০০৪ সালে আমরা গ্রিসে অংশগ্রহণ করেছিলাম নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের সদ্যপ্রয়াত কর্ণধার কে জেড ইসলামের অর্থানুকুল্যে। ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিক্সে আমাদের জন্য প্রথম পদক সিলভার এনে দেয় সিটি কলেজের ছাত্র আবীরুল ইসলাম। এরপর গণিত, ইনফরমেটিক, পদার্থ, জীববিজ্ঞান কিংবা ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড থেকে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা নিয়মিতভাবে পদক পেয়ে আমাদের বিশ্বমানের মেধার স্বীকৃতি এনে দিচ্ছে। এই ধারাকে আরো বেগবান করার জন্য আই সি টি ডিভিশনের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনায়েদ আহমেদের উৎসাহে জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরে এমনকি এই অতিমারীর সময় এ বছরও তা অনুষ্ঠিত হবে।

আমি নিশ্চিত অতিমারীর সময়ে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন রাস্তায় যানজটে কালক্ষেপন না করার ফলে প্রতিদিন বাড়তি যে সময়টি হাতে পাচ্ছে এই ধরণের উদ্যোগে তার অংশগ্রহণ করে তারা একই সঙ্গে প্রোগ্রামিং ও সমস্যা সমাধানের ঈর্ষনীয় দক্ষতা অর্জন করবে। আমরা দেখেছি যখনই আমাদের স্কুল-কলেজের ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয় তারা তাদের শ্রেয়তর প্রোগ্রামিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে কখনো কখনো তারা ১৩০/১৪০ দলের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নও হয়। আমি আশা করি এবারের জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের প্রোগ্রামিং এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। আগামী বছর ইন্টারন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে তাদের এই দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা অনেক ঊর্ধ্বে তুলে ধরবে। উপরন্তু আমাদের ছেলেমেয়েদের প্রোগ্রামিংয়ের এই দক্ষতাই বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হবে। এই প্রতিযোগিতায় সবার সাফল্য কামনা করি।

মোহাম্মদ কায়কোবাদ

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

আয়োজনের বিভাগ

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা

কুইজ প্রতিযোগিত

রেজিস্ট্রেশনের বাঁকি আর মাত্র 

  • 00দিন
  • 00ঘন্টা
  • 00মিনিট
  • 00সেকেন্ড

থিম সং 

ভিডিও

গ্যালারি

আয়োজক

বাস্তবায়ন সহযোগী

জাজিং প্লাটফর্ম